একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সরকারি নীতিমালা
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দেশের সকল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
১। ভর্তির যোগ্যতা ও শাখা নির্বাচনঃ
(১) ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯ সালে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিত এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে এই নীতিমালার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে কোনো কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।
(২) বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক তার সনদের মান নির্ধারণের পর দফা (১) এর অধীন ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।
(৩) ভর্তির জন্য একজন পার্থী নিচে উল্লিখিত শাখা নির্বাচন করতে পারবে। যথাঃ
(ক) বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোনো একটি;
(খ) মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার যেকোনো একটি এবং
(গ) ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার যেকোনো একটি।
২। প্রার্থী নির্বাচনের অনুসরণীয় পদ্ধতিঃ
(১) ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
(২) ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় সদরের কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৮৮ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং অবশিষ্ট ১২ শতাংশ আসন বিভাগীয় সদরের বাইরের (যেকোনো অঞ্চলের জন্য) শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
(৩) বিভাগীয় শহর ব্যতীত অন্যান্য জেলা শহরের কলেজগুলোতে ৮৮ শতাংশ আসন সবান জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ১২ শতাংশ আসন জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
(৪) দফা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত ৮৮ শতাংশ আসনে বিভাগীয় বা জেলা শহরের বাইরে কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না এবং ওই নির্বাচন বিভাগীয় বা জেলা শহরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনকে প্রভাবিত করবে না।
(৫) (ক) জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সব বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৩ পয়েন্ট ধরে ক্রমান্বয়ে ৪০ পয়েন্ট প্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। (৯ বিষয়ে জিপিএ ৫ হিসেবে ৯ন্৫=৪৫ পয়েন্ট হওয়ার কথা। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে ২ পয়েন্ট বাদ দেওয়ার কারণে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ৪৩ উল্লেখ করা হয়েছে)।
(খ) দফা (ক) এর বিধান সত্ত্বেও কেবল বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ পয়েন্ট প্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে সমান পয়েন্ট অর্জনের বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সাধারণ গণিত অথবা উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে ০৫ পয়েন্টপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(গ) দফা (খ) এর বিধান সত্ত্বেও যদি প্রার্থী বাছাইকল্পে উদ্ভূত সমস্যা নিরসন না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞানে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে।
(৬) উপ-অনুচ্ছেদ-৫(ক), (খ), (গ) ও (ঘ) দফা পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রয়োগের পরও যদি কোনো কলেজে বিদ্যমান আসনসংখ্যা অনুযায়ী প্রার্থী বাছাইয়ে উদ্ভূত সমস্যা না হয় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ড কম্পিউটার কেন্দ্র, ঢাকা-এর সভাপতির কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের পারস্পরিক মেধাক্রম সংগ্রহপূর্বক প্রার্থী বাছাই করবে।
(৭) এ নীতিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে।
(৮) সমমেধাসম্পন্ন প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/পোষ্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে (এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান/পোষ্যদের শনাক্তকরণের সপক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংগৃহীত সনদপত্র পেশ করতে হবে।)
৩। বিজ্ঞপ্তি, ভর্তি ও ফিঃ
(১) অনুচ্ছেদ ৬-এর দফা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কলেজসমূহ তাদের ভৌত অবকাঠামো ও শিক্ষকসংখ্যা অনুসারে নিজ নিজ কলেজের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির আগেই বোর্ডকে অবহিত করবে এবং বোর্ডসমূহ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে অবস্থিত কলেজগুলোতে এই বিধানের ব্যত্যয় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(২) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি সহ অনুমোদিত অন্য সব ফি, আসনসংখ্যা, ভর্তির যোগ্যতা ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কলেজের নোটিশ বোর্ডসহ বিজ্ঞপ্তি যথাযথভাবে প্রচারের মাধ্যমে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহ্বান করবে।
(৩) ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, কোনো কলেজের ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে।
(৪) আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কোনো কলেজ এ নীতিমালা অনুযায়ী তার আসনসংখ্যার সমানসংখ্যক ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের একটি মেধাক্রম তালিকা এবং মোট আসনসংখ্যার ন্যূনতম ২৫ শতাংশ অপেক্ষমাণ মেধাক্রম তালিকা কলেজের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করবে। মোট আসনে নির্বাচিত কোনো প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি না হলে কিংবা ভর্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো কারণে কোনো আসন শূন্য হলে, ওই অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুসারে শূন্য আসনে ভর্তি করতে হবে।
(৫) ভর্তির সময় প্রার্থীকে মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট/নম্বরপত্র এবং যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রার্থী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রশংসাপত্র দাখিল করতে হবে।
(৬) ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির জন্য আবেদনপত্র ফরমের মূল্য বাবদ ১০ টাকা এবং ভর্তি ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫০ টাকা অর্থাৎ ৬০ টাকা গ্রহণ করা হবে।
(৭) কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফি-এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রসিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
(৮) ভর্তির সময় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য ফিসহ নিচে উল্লিখিত ফি (যদি থাকে) গ্রহণ করা হবে। যথাঃ রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০, ক্রীড়া ফি ২৫, রোভার স্কাউট/গার্লস গাইড ফি ১০, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭, শাখা/বিষয় পরিবর্তন ফি ২৫ টাকা।
তবে শর্ত থাকে যে কোনো শিক্ষার্থীর পাঠবিরতি থাকলে এবং বিলম্বে ভর্তি হলে তার কাছ থেকে উপরিউক্ত ফি-এর অতিরিক্ত নি্নোক্ত ফি গ্রহণ করা যাবে।
পাঠবিরতি ফি ১০০, বিলম্ব ফি ৫০ টাকা।